আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রাণে

Latest News:
কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৪

হৃদয় ভাঙ্গার শব্দ

তোমাকে অনেকদিন দেখিনি
সে জন্য বুকে একটা চাপা ব্যাথা আছে অবশ্যই,
সেই সাথে আছে তোমাকে কাছে পাওয়ার প্রচন্ড আকুলতা।
তোমাকে দেখবো বলে কত রজনী
তাঁরাদের সাথে কথোপকথনে কাটিয়েছি,
চোখ বুঝেও আমি আমার সমস্ত সত্ত্বাজুড়ে
তোমার উপস্থিতি অনুভব করেছি।

কিন্ত আজ যখন তোমাকে দেখলাম,
অপরাজেয় বাংলার মতো বাকরুদ্ধ হয়ে রইলাম,
যেন এ জীবনের সব ভাষা বর্ণহীন হয়ে,
আমার উঠোনে ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে,
কিন্ত কি এক অদৃশ্য বাধায় আমার
কপাট খুলে যেতে পারছেনা !

ক্যাম্পাসের কোমল বৃষ্টিভেজা দূর্বা মাড়িয়ে,
চলেছ এক যুবকের হাত ধরে,
তোমার মসৃণ পদযুগলে পিষ্ট হয়ে,
দূর্বাগুলো যেন চিৎকার করে বলছে,
আমাকে এভাবে শেষ করে দিওনা,
এ যেন দূর্বা নয়,
আমার হৃদয়ের আর্তচিৎকার!

আমার দৃষ্টি সীমায় যতোদূর চোখ যায়,
চেয়ে রইলাম তোমাদের পথপানে,
একসময় তুমি অদৃশ্য হয়ে গেলে
কিন্ত রয়ে গেল তোমার পদরেখা।
সর্পিল পদরেখাগুলো যেন বিষাক্ত সর্পিনী হয়ে
আমায় ক্ষত-বিক্ষত করছে ছোবলে ছোবলে।

তোমার মিথ্যে ছলনাময় মিষ্টি কথাগুলো
আজ বড্ড মনে পড়ছে,
তোমার বিগত মিষ্টবিষ বাক্যবাণ,
আমার কর্ণকোটরে বাজছে,
হৃদয় ভাঙার শব্দের মতো।

গোধুলির আভা

শেষ বিকেলের পড়ন্ত সূর্য্যরশ্নি যখন জানালার পর্দা ভেদ করে
তোমার কোমল গালে আলতো করে ছুঁয়ে যায়,
হালকা হলুদাভ আবেশ ছড়িয়ে পড়ে সমস্ত মুখ ভঙ্গিমায়,
তখন সত্যি এক অদৃশ্য ঝড় বয়ে যায় আমার ক্ষত-বিক্ষত হৃদয়ের
প্রতিটি কোনায় কোনায়!

যখন অবাধ্য কেশগুচ্ছ কপালের স্নিগ্ধ জমিন ছেড়ে
ধীরলয়ে দোল খায় চোখের পাতায় পাতায়,
দীঘির কালো স্বচ্ছ জলের মতো যেন মিশে যেতে চায়
মায়াবী চোখের আনন্দ অশ্রুকণায়।

যখন নির্জন বিকেলে বয়ে যাওয়া চৈতালি হাওয়া
মধুর আবেশে আঁচড়ে পড়ে তোমার স্নিগ্ধ মুখাবয়বে,
ঠিক তখনি কেশগুচ্ছের আড়ালে দাঁড়িয়ে
কপালের ছোট্র টিপ তার উপস্থিতি জানান দিয়ে যায়।
জোড়া ভ্রু’র স্তব্ধতায় দীপ্ত ভঙ্গিতে অবস্থান করে,
উজ্জ্বল মায়াবী স্নিগ্ধতার মধুময় আবেশে,
তোমার সৌন্দর্য্যে যেন আরেকটু প্রলেপ মেখে দেয়,
মনহারা কাজলকালো টিপ!

কাজল কালো টিপের দীপ্ত উপস্থিতি আমার কাছে
মনে হয় প্রবল প্রতিদ্বন্ধীর মতো,
তুচ্ছ টিপের এমন সৌভাগ্যে
আমি যারপরনাই ঈর্ষান্বিত হয়ে যাই,
মনে হয় এখনি গিয়ে টুটি চেপে ধরি,
বুড়িগঙ্গার বিষাক্ত জলে শ্বাসরুদ্ধ করে
গলা ভর্তি পানি খাইয়ে ডুবিয়ে মারি।

যখন দুষ্টু অথচ মিষ্টি হাসি খেলে যায় তোমার চিবুকে,
তখন মনে হয় গোধুলীর আভা
উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হয়ে,
দোল পূর্ণিমার রঙ্গীন আবীরের ন্যায়
ছড়িয়ে পড়ছে তোমার ঠোটের কোনে।

ফাগুন সন্ধ্যাতে বসন্তের মৃদু উত্তাপে,
সামান্য ঘামের কণা যখন চিকন নাসিকা বেয়ে,
মুক্তো দানার মতো উজ্জ্বল্যে; বিন্দু বিন্দু হয়ে
গড়িয়ে পড়ে ঠোট অবধি,
মনে হয় দূরে ছুড়ে ফেলি
আমার যতো আছে ব্যবধি।

হে হৃদয়েশ্বরী,
তোমার মুখচ্ছায়ায় মুগ্ধ আমি!
আমার হৃদয় সমুদ্রে ভালোবাসার,
শুশুকেরা সাঁতার কাটে দিবানিশি।
Copyright © 2014 রিপন ঘোষের খেরোখাতা All Right Reserved
^
Blogger দ্বারা পরিচালিত.